পবিত্র আল-কুরআন মানবজাতির হেদায়েতের আলোকবর্তিকা। আরবি ভাষায় অবতীর্ণ এই মহাগ্রন্থের অন্তর্নিহিত ভাব ও অর্থ বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে বিগত দুইশ বছরে বহু মণীষী ও গবেষক নিরলস কাজ করে গেছেন। ১৮০৮ সালে আংশিক অনুবাদের মাধ্যমে যে যাত্রার সূচনা হয়েছিল, আজ তা পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক বহু অনুবাদে সমৃদ্ধ।
আমাদের এই পেজটির মূল উদ্দেশ্য হলো—বাংলা ভাষায় পবিত্র কুরআনের প্রথম অনুবাদ থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য অনুবাদগুলোর একটি তালিকা পাঠকদের সামনে তুলে ধরা। যারা কুরআনের বাংলা অনুবাদ নিয়ে গবেষণা করতে চান কিংবা নিজের জন্য সঠিক অনুবাদটি খুঁজে নিতে চান, এই তালিকাটি তাদের জন্য একটি সহায়ক গাইড হিসেবে কাজ করবে।
বাংলা ভাষায় কুরআনের প্রথম অনুবাদক কে, তা নিয়ে কিছু ঐতিহাসিক ভিন্নমত ও তথ্যের স্তর রয়েছে। আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে এটি প্রকাশ করতে চান, তবে নিচের তথ্যগুলো ক্রমানুসারে দিলে পাঠকদের জন্য বুঝতে সুবিধা হবে:
১. প্রথম আংশিক অনুবাদক: মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া (১৮০৮ খ্রি.)
অনেকের ধারণা গিরিশচন্দ্র সেনই প্রথম অনুবাদক, কিন্তু তথ্যমতে তারও আগে ১৮০৮ সালে রংপুরের মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া পবিত্র কুরআনের ৩০তম পারার (আমপারা) কাব্যিক অনুবাদ করেন। এটিই বাংলা ভাষায় কুরআনের প্রথম আংশিক মুদ্রণ বা অনুবাদ হিসেবে স্বীকৃত।
২. প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদক (বিতর্কিত): মৌলভী নাঈমুদ্দীন (১৮৩৬ খ্রি.)
ঐতিহাসিক কিছু সূত্র দাবি করে যে, ১৮৩৬ সালে টাঙ্গাইলের মৌলভী নাঈমুদ্দীন কুরআনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ সম্পন্ন করেছিলেন। তবে এটি গিরিশচন্দ্র সেনের অনুবাদের মতো ততটা ব্যাপকভাবে প্রচারিত বা সহজলভ্য হয়নি।
৩. সর্বাধিক পরিচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদক: ভাই গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৮১-১৮৮৬ খ্রি.)
সাধারণভাবে এবং পাঠ্যপুস্তকে গিরিশচন্দ্র সেনকেই বাংলা ভাষার প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদক হিসেবে ধরা হয়।
- শুরু: ১৮৮১ সালে।
- শেষ: ১৮৮৬ সালে।
- তিনি ব্রাহ্মধর্মের অনুসারী হয়েও ইসলাম ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং আরবি ভাষা শিখে মূল কুরআন থেকে এটি অনুবাদ করেন। তার এই কাজের জন্য মুসলিম সমাজ তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে ‘ভাই’ উপাধি দিয়েছিল।
৪. মুসলমানদের মধ্যে প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদক: মাওলানা আব্বাছ আলী (১৯০৫ খ্রি.)
যদি প্রশ্ন আসে মুসলমানদের মধ্যে প্রথম কে পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেছেন, তবে গবেষকদের মতে চব্বিশ পরগণার মাওলানা আব্বাছ আলীর নাম সবার আগে আসে। ১৯০৫ সালে তার এই পূর্ণাঙ্গ অনুবাদটি প্রকাশিত হয়।
আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি সারাংশ টেবিল:
| অনুবাদের ধরন | অনুবাদকের নাম | সাল (প্রায়) |
| প্রথম আংশিক অনুবাদ | মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া | ১৮০৮ খ্রি. |
| প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ (ঐতিহাসিক) | মৌলভী নাঈমুদ্দীন | ১৮৩৬ খ্রি. |
| প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ (প্রচারিত) | ভাই গিরিশচন্দ্র সেন | ১৮৮৬ খ্রি. |
| মুসলিমদের মধ্যে প্রথম পূর্ণাঙ্গ | মাওলানা আব্বাছ আলী | ১৯০৫ খ্রি. |
📖 আল কোরআন: প্রধান বাংলা অনুবাদ সমূহের তালিকা
বাংলা ভাষায় পবিত্র কোরআনের অসংখ্য অনুবাদ হয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য কিছু অনুবাদের লিস্ট নিচে দেওয়া হলো:
১. ধ্রুপদী ও জনপ্রিয় অনুবাদসমূহ
| অনুবাদকের নাম | বিশেষত্ব |
| মৌলভী নাঈমুদ্দীন (১৮৩৬), গিরিশ চন্দ্র সেন (১৮৮৬) | প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ (ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পন্ন)। |
| মাওলানা মুহিউদ্দীন খান | ‘মাআরেফুল কোরআন’-এর সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য অনুবাদ। বাংলাদেশে সর্বাধিক পঠিত। |
| হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ | ‘আল-কুরআনুল করীম’ – আধুনিক ও ঝরঝরে বাংলা ভাষা। |
| ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান | বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল অনুবাদ। |
২. আধুনিক ও সাহিত্যিক অনুবাদ
- বিচারপতি হাবিবুর রহমান: ‘কুরআন শরীফ: সহজ সরল বাংলা অনুবাদ’ (সাহিত্যিক ধাঁচের)।
- ড. জহুরুল হক: সহজ ও আধুনিক শব্দচয়ন।
- মুজীবুর রহমান: অত্যন্ত নির্ভুল এবং আক্ষরিক অনুবাদের জন্য পরিচিত।
৩. তাফসীর ভিত্তিক অনুবাদ (ব্যাখ্যাসহ)
- তাফসীরে ইবনে কাসীর: মূল আরবি থেকে সরাসরি অনুবাদ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা।
- তাফসীরে মাআরেফুল কোরআন: মুফতি শফী (র.) প্রণীত, অনুবাদ করেছেন মাওলানা মুহিউদ্দীন খান।
- তাফসীরে জালালাইন: মাদরাসা পড়ুয়াদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়।